-- বিজ্ঞাপন ---

‘ক্রিস্টিন’ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুর্তোগাল এয়ারফোর্সের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান!

সিরাজুর রহমান#

চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি এক ভয়ংকর ঝড় ক্রিস্টিন পর্তুগালের ‘মন্টে রিয়েল’ এয়ারবেসে আঘাত হানে। এই ঝড়ের প্রবল বাতাসে হ্যাঙ্গারের ছাদ ভেঙে পড়ে পর্তুগিজ বিমান বাহিনীর বেশ কয়েকটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্তুগাল বিমান বাহিনীতে বর্তমানে ২৮টি এফ-১৬ এএম/বিএম মডেলের যুদ্ধবিমান সক্রিয় রয়েছে, যেগুলোকে পরবর্তীতে অনেকটা ব্লক-৫০/৫২ পর্যায়ে আপগ্রেড করে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান Lockheed Martin।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রথম সার্ভিসে আসে ১৯৭৮ সালে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি বিশ্বের অন্যতম সফল এক ইঞ্জিনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এর সর্বশেষ সংস্করণ হলো F-16V (Viper) Block 70/72। লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন তাদের তৈরি সর্বশেষ সংস্করণের এফ-১৬ ব্লক-৭০/৭২ মডেলের যুদ্ধবিমানে শক্তিশালী ইঞ্জিন আধুনিক এপিজি-৮৩ (AESA) রাডার, উন্নত এভিওনিক্স (ডাটা লিংক-১৬) ও নতুন মিশন কম্পিউটার যুক্ত করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশ বিভিন্ন সিরিজ ও মডেলের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। তবে একক সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী এখনো পর্যন্ত প্রায় ৮৯৭টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।এছাড়া আমেরিকার পাশাপাশি তুরস্ক (২৪৩), ইসরায়েল (২২৪), মিশর (২১৮), দক্ষিণ কোরিয়া (১৬৭), গ্রীস (১৫৪), তাইওয়ান (১৩৭), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৭৬), পাকিস্তান (৭৫), সিঙ্গাপুর (৬০), জর্ডান (৫৯), বেলজিয়াম (৫৩) ও থাইল্যান্ড (৫০) এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অপারেট করে।

তবে সম্প্রতি এশিয়ার আরেক ব্যবহারকারী দেশ তাইওয়ানের একটি আমেরিকার আধুনিকীকৃত F-16V (Viper) যুদ্ধিবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালে সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটি আসলে পুরোনো Block 20 airframe, যাকে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে Viper মানে আপগ্রেড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ২,৫৫০ এর অধিক বিভিন সিরিজ ও মডেলের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অপারেশনাল রয়েছে। যদিও সার্ভিসে আসার পর থেকে এখনো পর্যন্ত প্রায় ৬৭০-৬৮৫টি এই জাতীয় যুদ্ধবিমান একেবারে ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসলে ১৯৭৮ সালের পর থেকে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মোট প্রায় ৪,৭০০টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিপুল ব্যবহার, প্রচুর অপারেশনাল মিশন এবং অসংখ্য রপ্তানি বিবেচনায় এই ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত আকারেই রয়েছে বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি চীনের জে-১০সি, সুইডেনের সাব গ্রিপেন-ই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এফএ-৫০ যুদ্ধবিমানের আগমনের ফলে বিশ্ব বাজারে নতুন করে এফ-১৬ রপ্তানি ও ক্রয়াদেশ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে এর নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সক্ষমতার কারণে ইউএস এয়ারফোর্স উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে এটিকে আগামী ২০৪০ সাল পর্যন্ত (আংশিক) সার্ভিসে রাখতে চায়।##তথ্যসূত্র: Lockheed Martin, USAF, Aero Times, Wikipedia