অভিন্ন প্রশ্নপত্রেও চট্টগ্রামে ফল বিপর্যয়, পাসের হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ১৬৮টি, খাগড়াছড়িতে পাসের হার মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ; নগরীর সঙ্গে পাহাড়ি জেলার ব্যবধান ৩৬ শতাংশের বেশি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
অভিন্ন প্রশ্নপত্র, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি,শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে বৈষম্য কমাতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। লক্ষ্য ছিল দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রশ্নের মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করা। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেল উদ্বেগজনক চিত্র। পাসের হার নেমে এসেছে ৫২.০৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। শুধু সামগ্রিক ফলাফলই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ফলাফলেও রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। চট্টগ্রাম মহানগরীতে যেখানে পাসের হার ৬৬.২০ শতাংশ, সেখানে খাগড়াছড়িতে মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ একই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েও নগর ও পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশের বেশি।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন প্রায় ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং বহিষ্কৃত হয়েছেন ২৭ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।
প্রথমবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার অন্যতম বড় পরিবর্তন ছিল নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ব্যবহার। আগে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নপত্র তৈরি করত। ফলে বোর্ডভেদে প্রশ্নের মান ও কঠিনতার মাত্রায় পার্থক্য থাকার অভিযোগ ছিল। সেই পার্থক্য কমাতে সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়। এর ফলে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোরসহ দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। নতুন এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার মানে সমতা আনা এবং বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের বৈষম্য কমানো। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল বলছে, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু হলেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও শিক্ষার পরিবেশে সমতা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে নগরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পার্থক্য থাকতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকসংকট, পাঠদানের ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার পরিবেশের বিষয়গুলোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কারণে পাসের হার কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।
পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা, করোনার প্রভাবও আলোচনায়
এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং পরবর্তী সময়ে পাঠদান ও শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এগিয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানিয়েছেন, ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছেন। করোনাসহ বিভিন্ন কারণে পাঠদান ও শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ছিল। তাঁর মতে, জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গবেষণা প্রয়োজন। অর্থাৎ ফলাফলের অবনতিকে একটি নির্দিষ্ট কারণে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করতে হবে।
১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত তিন বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। ২০২৪ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০.৩২ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫২.৫৭ শতাংশে। জিপিএ-৫ পান ৬ হাজার ৯৭ জন। চলতি বছর পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৮.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭ হাজার ৩৪০ জন। শুধু গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন। ফলাফলের এ চিত্র বলছে, চট্টগ্রাম বোর্ডে শুধু উত্তীর্ণের সংখ্যাই কমছে না, সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
মহানগর ও পাহাড়ি জেলায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান
চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ফলাফল বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে পাহাড়ি জেলাগুলোর চিত্র। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৬৬.২০ শতাংশ। পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এ হার ৫৭.৪২ শতাংশ। তবে মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার অন্যান্য এলাকায় পাসের হার মাত্র ৪৫.৫৯ শতাংশ। কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩.৩৪ শতাংশ, বান্দরবানে ৪১.৪২ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৩.২৪ শতাংশ। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি। এ জেলায় পাসের হার মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ খাগড়াছড়িতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭০ জনই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর পাসের হার যেখানে ৬৬ শতাংশের বেশি, সেখানে খাগড়াছড়িতে তা ৩০ শতাংশও ছুঁতে পারেনি। রাঙামাটিতেও পাসের হার এক-তৃতীয়াংশের সামান্য বেশি। এই ব্যবধানের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের সুযোগ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সবকিছুই বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তবে এসব কারণকে ফলাফলের নিশ্চিত ব্যাখ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে জেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রয়োজন।
বন্যায় পিছিয়ে যায় চট্টগ্রামের পরীক্ষা
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের বাড়তি একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বোর্ডটির কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।গত ২ জুলাই বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু ৮ জুলাই থেকে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ২৭ জুলাই থেকে নিয়মিত সূচির পরীক্ষা শুরু হলেও স্থগিত পরীক্ষাগুলো ২০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতে বেশি সময় লাগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, মানসিক চাপ ও পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় প্রভাব পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যায় পড়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়াকেই ফলাফল কমার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
বিজ্ঞান বিভাগে ভালো ফল, মানবিকে পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪.৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪.১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮.৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বিভাগে ২ হাজার ১০৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৩৭ জন এবং মানবিক বিভাগে মাত্র ১৮৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের ফলাফলের এই ব্যবধানও আলাদা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল কেন তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তা জানতে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ছাত্রীদের ফলাফল ভালো
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭.৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৩.৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রীরা এগিয়ে। মোট ২ হাজার ৯২৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র। অর্থাৎ পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন।
তিন কলেজে কেউ পাস করেননি
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উদ্বেগের চিত্র। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিপরীতে ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। এবার ১১৪টি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এমন ফলাফল শিক্ষার মান ও পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফল বিপর্যয় থেকে বের হওয়ার পথ কী?
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যান নয়; এটি আঞ্চলিক শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য, পাঠদানের মান এবং পরীক্ষাপদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া নিঃসন্দেহে মূল্যায়নে সমতা আনার একটি উদ্যোগ। কিন্তু একই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সমান হয়ে যায় না। নগরীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাহাড়ের দুর্গম এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষক, অবকাঠামো, পাঠদানের সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশের পার্থক্য থাকলে ফলাফলেও তার প্রতিফলন ঘটতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন নয়, শিক্ষার সুযোগ ও মানের বৈষম্য কমানোর উদ্যোগও জরুরি। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে পাসের হার কমার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের ফলাফল তাই একটি সতর্কসংকেত। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগে সমতা নিশ্চিত করা না গেলে কেবল পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

