-- বিজ্ঞাপন ---

রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিপুল আর্টিলারি সেল সরবরাহ: কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

কাজী আবুল মনসুর/সিরাজুর রহমান#
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (DIA) এর দেয়া তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লক্ষেরও অধিক ১৫২ এমএম রাউন্ড আর্টিলারি সেল/এমিউনেশন পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করেছে।
গত ১৩ জুলাই, ২০২৫ সালের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুসারে, DIA অনুমান করেছে যে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পিয়ংইয়ং থেকে মস্কোতে ২৮,০০০ এরও বেশি কন্টেইনার গোলাবারুদ পাঠানো হয়েছে।
আসলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ এবং কমব্যাট ড্রোনের চাহিদার একটি বড় অংশ ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে পেয়ে থাকে। অথচ এই দেশ দুটির সামরিক আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রযুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে রাশিয়া এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান তেমন কিছুই করে দেখাতে পারেনি।
উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সাথে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি বিনিময় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও এখানে কার্যত একতরফা সুবিধাভোগী কিনা রাশিয়া নিজেই।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ১৫২ এমএম রাউন্ড সেল বা এমিউনেশন এখন রাশিয়ার সম্মুখ সারিতে ব্যবহৃত মোট আর্টিলারির প্রায় ৪০% হতে পারে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর পর থেকে ইরান খুব সম্ভবত রাশিয়ার কাছে আনুমানিক ২০০০ থেকে ২৫০০ এর অধিক কমব্যাট ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছে। যদিও উভয় দেশই প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করেনি।
যে কারনে বিপুল আর্টিলারি সেল ও এমিউনেশন

রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ আর্মড আর্টিলারি সেল সরবরাহ করা হয়েছে। এই তথ্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র সরবরাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক সংকট ও উত্তর কোরিয়ার সমর্থন
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়ায় তাদের অস্ত্রাস্ত্রের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার নিজস্ব সামরিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে আর্টিলারি সেলসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে, যা রুশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্য
উত্তর কোরিয়া নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশে অস্ত্র রপ্তানি থেকে বড় রাজস্ব অর্জন করে থাকে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তারা নতুন বাজার খুঁজে পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে থেকে কিছুটা নিরাপদ অবস্থান বজায় রাখছে।

নিষেধাজ্ঞা অতিক্রমের বহুবিধ চ্যানেল
রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া উভয়েই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় তাদের মধ্যে অস্ত্র লেনদেন কঠিন হলেও বিভিন্ন গোপন মাধ্যম, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বা অন্য দেশ ব্যবহার করে এসব সামগ্রী বিনিময় হচ্ছে।
এই অবৈধ চ্যানেলগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
উত্তর কোরিয়ার এই সরবরাহ রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। চীন ও অন্যান্য এশিয়ান দেশও এই নতুন সামরিক জোট এবং অস্ত্র লেনদেনকে নজরদারি করছে।
বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাপকাঠি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশ্বের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন,
“উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে সাময়িকভাবে বৃদ্ধি দিতে পারে, তবে এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।”
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এই অস্ত্র লেনদেন বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।