সিরাজুর রহমান#
পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বিমান প্রদর্শনী রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্যাটু (RIAT) ২০২৫-এ অংশগ্রহণ করেছে। এই বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (PAF) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মূলত তুরস্কভিত্তিক আনাদুলু নিউজ এজেন্সির দেয়া তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের এই আন্তর্জাতিক এয়ার শোতে অংশ নিতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছেন। এই দলে রয়েছে একটি জেএফ-১৭ ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান।
পাকিস্তান গত ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। তবে এবারের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই প্রথমবার জেএফ-১৭ ব্লক-৩ ইউরোপের আকাশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে যুদ্ধবিমানটি একটি আইএল-৭৮ ট্যাংকার বিমান থেকে এয়ার রিফুয়েলিং সম্পন্ন করে।
জেএফ-১৭ ব্লক-৩ হচ্ছে একটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার জেট, যা চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে ডিজাইন ও তৈরি করে। এতে রয়েছে চীনের তৈরি উন্নত KLJ-7A (AESA) রাডার। যা একাধিক লক্ষ্য শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারে। পাশাপাশি এতে রয়েছে হেলমেট-মাউন্টেড টার্গেটিং সিস্টেম এবং আধুনিক গ্লাস ককপিট, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাইলটকে কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
বর্তমানে এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি একটি RD-93 আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, তবে ভবিষ্যতে এতে চীনের তৈরি WS-13 ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধবিমানটি মোট ৭টি হার্ডপয়েন্টে প্রায় ৩,৬৫০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।
এর প্রধান অস্ত্র হিসেবে রয়েছে লং রেঞ্জের PL-15E (BVR) মিসাইল (রেঞ্জ: ১৪৫–২০০ কিমি), মিডিয়াম রেঞ্জের PL-12 এবং শর্ট রেঞ্জের PL-10 এয়ার টু এয়ার মিসাইল। এছাড়া মিসাইলের পাশাপাশি CM-400AKG অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং অন্যান্য গাইডেড বোম্বস ও স্মার্ট মিউনিশন বহন করে।
আসলে যুদ্ধবিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর RCS বা Radar Cross Section। জেএফ-১৭ থান্ডার (ব্লক-৩) ভ্যারিয়েন্টে রাডার ক্রস সেকশন যতটা সম্ভব কমানোর সর্বো চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এটি কোনো স্টেলথ ফাইটার নয়। এটির RCS হতে পারে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বর্গমিটার।
একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সামরিক থিংক ট্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জে-১০সি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি জেএফ-১৭ ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান সরাসরি এয়ার কমব্যাট মিশনে অংশগ্রহণ করে। এতে করে এই যুদ্ধবিমানের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়টি আরও জড়ালোভাবে স্পষ্ট হয়।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্যাটু (RIAT) ২০২৫-এ জেএফ-১৭ ব্লক-৩ উপস্থিতি পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এটি এখনও পর্যন্ত অনেক উন্নত ও ডেডিকেটেড যুদ্ধবিমানের সাথে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়ে গেছে। ## তথ্যসূত্র: আনাদুলু এজেন্সি, অ্যারোস্পেস গ্লোবাল নিউজ, আরব নিউজ, ডেইলি টাইমস

