কাজী আবুল মনসুর#
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে দেওয়া হয়েছে,যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ট্রাম্প এই পুরস্কারের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করতেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে ভূমিকা রাখার দাবি করেছিলেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শান্তি প্রচেষ্টাগুলোর প্রতি সম্মান জানালেও, তার সামগ্রিক আন্তর্জাতিক রেকর্ড এবং অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার প্রতি মনোভাবের কারণে তাকে পুরস্কৃত করেনি। কমিটির প্রধান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বলেছেন, পুরস্কার দেওয়া হয় সাহসী ও সততাপূর্ণ ব্যক্তিদের, এবং এটি শুধুমাত্র প্রচারণা বা মিডিয়া মনোযোগের ভিত্তিতে নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিয়াং এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বলে উল্লেখ করেছেন, দাবি করে যে নোবেল কমিটি “শান্তির চেয়ে রাজনীতি”কে গুরুত্ব দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অনেকেই মেমে ও পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্পের পুরস্কার না পাওয়ার ঘটনাকে ব্যঙ্গ করেছেন। এদিকে, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি, তবে তার অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী,তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন।
মারিয়া করিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য নিরলস সংগ্রামের জন্য। নরওয়ের নোবেল কমিটি তাকে “ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য” এই পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
মারিয়া করিনা মাচাদো (María Corina Machado) ভেনিজুয়েলার একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা এবং মানবাধিকারকর্মী। তিনি ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি শিল্প প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন আন্দ্রেস বেলো ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় (Universidad Católica Andrés Bello, UCAB) থেকে। পরে তিনি ফিনান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন কারাকাসের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Instituto de Estudios Superiores de Administración, IESA) থেকে। ২০০৯ সালে তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড ফেলোজ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, যা তার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতি শক্তিশালী করে।
মাচাদো ২০০১ সালে ‘সুমাতে’ নামক ভোট পর্যবেক্ষণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৭ সালে ‘সোই ভেনেজুয়েলা’ জোট গঠন করেন, যা ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সমন্বয় সাধন করে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরপর তিনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে গা ঢাকা দেন। তবে তার আন্দোলন অব্যাহত থাকে, এবং তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
নোবেল কমিটি মাচাদোকে “ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য” পুরস্কৃত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি সমালোচনা করেছে, তবে মাচাদোর সংগ্রাম আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।মাচাদোকে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার পুরস্কৃত করা হবে, যা ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতীক।২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর, অসলো, নরওয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হবে। মাচাদোর সংগ্রাম ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি নতুন দিনের আশা জাগিয়েছে। তার সাহসী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাকে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত করেছে।##

